যেভাবে আপনি জিহাদ ও মুজাহিদীনদের ভালবাসবেন।। এবং মুনাফিক হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করবেন।

যেভাবে আপনি জিহাদ ও মুজাহিদীনদের ভালবাসবেন!
এবং মুনাফিক হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করবেন ।

প্রিয় পাঠক! শুধু দাবী করলেই, কারো দাবী মেনে নেয়া হয়না । বরং তার সে দাবীটি গ্রহনযোগ্য হওয়ার জন্য তার কৃতদাবীর উপর দলীল/প্রমাণ লাগবে, সুতরাং আমি জিহাদ ও মুজাহিদীনদের ভালবাসি, শুধু মৌখিক এ স্বীকারোক্তিই দাবীটি গ্রহনযোগ্য হওয়ার জন্য যথেষ্ঠ নয় । বরং এর জন্য আমাকে শক্তিশালী দলীল উপস্থাপন করতে হবে। আমার দলীল যত বেশি শক্তিশালী ও মজবুত হবে, আমার দাবীর সততাও ততো বৃদ্ধি পাবে৷ তাহলে দলীল কি? আমি যে জিহাদ ও মুজাহিদীনদের ভালবাসি!!

প্রথম দলীলঃ- অধ্যায়ন ও শ্রবণ

হ্যাঁ প্রিয় পাঠক! কোন বিষয় সম্পর্কে কেউ অজ্ঞ থাকলে সে বিষয়ের প্রতি তার ভালবাসাও জন্মাবেনা এটাই স্বাভবিক৷ কিন্তু যখনই কোন বিষয় সম্পর্কে কেউ জানতে থাকবে, তখন সে ব্যক্তির অন্তরে ঐ বিষয়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনুসারে ভালবাসা বৃদ্ধি পেতে থকবে। অতএব, কেউ যদি জিহাদ ও মুজাহিদীনদের ভালবাসার দাবী করে কিংবা জিহাদ ও মুজাহিদীনদের ভালবাসতে চায়, তবে অবশ্যই তাকে জিহাদ ও মুজাহিদীন সম্পর্কে জানতে হবে। আর জানার সে মাধ্যম হলো দুটি – ১। অধ্যায়ন ২। শ্রবণ
১। হ্যাঁ! প্রিয় পাঠক! তাই আপনি অধ্যায়ন শুরু করে দিন । মনোযোগ সহকারে মুহাব্বতের সাথে সঠিক পথের একজন পথিক হতে আপনিও পথ চলা শুরু করে দিন । আর সে পথে চলার ক্ষেত্রে পাঠ করুন পবিত্র কোরআন ও কোরআনের তাফসীর গ্রন্থসমূহ। এবং পাঠ করুন কিতাবুল জিহাদ ও কিতাবুল মাগাযী । এবং জিহাদ সম্পর্কে অভিজ্ঞ উলামাদের গ্রন্থসমূহ ।
২। হ্যা! প্রিয় পাঠক! শ্রবণেও জানতে পারেন অনেক কিছু। তাই জিহাদ সংক্রান্ত অডিও-ভিডিও লেকচার শুনতে থাকুন, দেখতে থাকুন। আশা করি এ বিষয়ে আপনার জ্ঞানের পরিধি যথেষ্ঠ পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে৷

দ্বিতীয় দলীলঃ- تحريض তথা উৎসাহ প্রদান

প্রিয় পাঠক! যখন আপনি জিহাদ ও মুজাহিদীন সম্পর্কে জানতে পারলেন, তখন আপনার দায়িত্ব হলো, সেবিষয়ে অপর ভাইকে অবগত করা৷ তাকে বেশি বেশি জিহাদের প্রতি উদ্ভুদ্ধ করা। রব্বুল আলামিন এরশাদ করেছেন –
يا ايها النبي حرض المؤمنين علي القتال
অর্থাৎ, হে নবী! আপনি মুমিনদেরকে যুদ্ধের প্রতি উৎসাহ প্রদান করতে থকুন।(সূরা আনফাল-৬৫)
এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে আমরা সকলেই জিহাদের প্রতি অপর মুমিনকে উৎসাহিত করার ফরয দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়েছি। তাই আসুন! আমরা সকলে, সকল মুমিনদেরকে যুদ্ধের প্রতি উৎসাহিত করে জিহাদ ও মুজাহিদদের প্রতি ভালবাসার দলীল উপস্থাপন করি। এবং নিজেকে মুনাফিক হওয়া থেকে হিফাযত করি।

তৃতীয় দলীলঃ- اعداد তথা প্রস্তুতি

হ্যাঁ! প্রিয় পাঠক! জিহাদের প্রতি উৎসাহ দান অবশ্যই আপনাকে জিহাদের প্রস্তুতি নিতে অনুপ্রাণিত করবে। কেননা দাওয়াতের প্রভাবে আপনার দিলে যুদ্ধে বের হবার ইচ্ছা প্রবল হবে। আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেছেন –
ولو ارادوا الخروج لاعدوا له عدة
অর্থাৎ، যদি সত্যিকার অর্থে তাদের জিহাদে বের হবার ইচ্ছা থাকতো, তবে তার জন্য অবশ্যই কিছুনা কিছু প্রস্তুতি গ্রহণ করতো।
অতএব, যারাই জিহাদের ইচ্ছা পোষণে সত্যবাদি হবে তারা অবশ্যই জিহাদের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করবে।

অন্যত্র আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেছেন –
واعدوا لهم ما استطعتم من قوة
অর্থাৎ তোমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহন করতে থাকো, তোমাদের সাধ্যে যতটুকু সম্ভব ততটুকু । ( সূরা আনফাল-৬০)
প্রিয় পাঠক! উক্ত আয়াত নাযিল হওয়ার দ্বারা আমরা সকলেই সর্বসময়ে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে রাখার ফরয দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়েছি। অর্থাৎ, আমাদের সকলের জন্য ফরয হলো সর্বসময় জিহাদের প্রস্তুতি নিয়ে থাকা৷ যাতে জিহাদের ডাক আসার সাথে সাথে আমরা ময়দানে শত্রুর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারি৷ তাই আসুন ! আমরা সকলে জিহাদের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের মাধ্যমে জিহাদ ও মুজাহিদীনদের ভালবাসার দলীল উপস্থাপন করি এবং নিজেকে মুনাফিক হওয়া থেকে হিফাযত করি ।

চতুর্থ দলীলঃ-انصار তথা সাহায্যকারী হওয়া

জিহাদ ও মুজাহিদীনদের ভালবাসার চতুর্থ দলীল হলো তাঁদেরকে সাহায্য করা । তাঁদের সার্বিক প্রয়োজনাদীর প্রতি লক্ষ রাখা। এবং সেক্ষেত্রে নিজের জান, মাল ও সময় ব্যয় করা। কখনোই কৃপণতা বা উদাসীনতাকে নিজের ভেতর প্রশ্রয় না দেয়া। নিজের ২৪ ঘন্টা সময় ও সমুদয় মাল হতে নূন্যতম একটি অংশ জিহাদ ও মুজাহিদদের কাজে ব্যয় করা৷ জিহাদের সরঞ্জামাদীর ব্যবস্থা করা। নিজের ঘর-বাড়ি সবসময় জিহাদের কাজের জন্য উন্মুক্ত রাখা। যখন এভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন, তো আল্লাহ তা’আলাও আপনাদেরকে সাহায্য করবেন। আপনাকে জিহাদ ও দীনের খেদমতে দৃঢ়পদ রাখবেন৷ আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেন –
ان تنصروا الله ينصركم ويثبت اقدامكم
অর্থাৎ, যদি তোমরা আল্লাহকে (অর্থাৎ আল্লাহর দীনকে) সাহায্য করো, তো আল্লাহও তোমাদেরকে সাহায্য করবেন। এবং আল্লাহ তোমাদেরকে দৃঢ়পদ রাখবেন৷ (সূরা মুহাম্মদ-৭)

অতএব, আপনি আল্লাহর দীনকে এমনভাবে সহযোগিতা করতে থাকুন, যেন আল্লাহ তা’আলা আপনার প্রতি মুগ্ধ হয়ে যান।

পঞ্চম দলীলঃ- انفاق তথা মাল খরচ করা

জিহাদের ভালবাসা অবশ্যই আপনাকে মাল খরচ করতে উৎসাহিত করবে। যে মাল ব্যয় করতে জানে, অবশ্যই সে চুড়ান্ত পর্যায়ে জানও দিতে পারবে ইনশাআল্লাহু তা’আলা৷ আপনাকে আল্লাহ তা’আলা সম্পদ দান করেছেন। অতএব, আল্লাহর নির্দেশেই আপনি তাঁর রাহে মাল খরচ করবেন। আপনি আপনার সম্পদ দ্বারা জিহাদে শরীক হোন। তাই বড় থেকে বড় ও বেশীর থেকে বেশী জিহাদের জন্য খরচ করুন। এবং অন্যের থেকেও মাল সংগ্রহ করে একাজে ব্যয় করতে থাকুন৷ পবিত্র কালমুল্লায় রব্বুল আলামিন এরশাদ করেছেন –
وانفقوا في سبيل الله ولا تلقوا بايديكم الي التهلكة
অর্থঃ আর তোমরা আল্লাহর পথে (জিহাদে মাল) খরচ করতে থাকো। এবং (জিহাদের জন্য মাল খরচ না করে) নিজেদেরকে ধ্বংসের মাঝে ফেলে দিওনা। (সূরা বাকারা-১৯৫)
প্রিয় পাঠক! এ আয়াত অবর্তীনের মাধ্যমে আমাদের উপর যুদ্ধের জন্য মাল খরচ করা ফরয় করে দেয়া হয়েছে৷ এবং জিহাদের জন্য প্রত্যেক ব্যক্তির জন্যই তাঁর পূর্ণ সাধ্যানুয়ায়ী এবং সকলের জন্য জিহাদের প্রয়োজন পরিমাণ মাল খরচ করা ফরয, যদি তারা এর উপর সক্ষম হয়। সুতরাং, আসুন! আমরা সকলে জিহাদের জন্য জান মাল খরচ করে জিহাদের প্রতি আমাদের ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে ফরয দায়িত্ব পালন করি। এবং নিজেদেরকে মুনাফিক হওয়া থেকে রক্ষা করি।

ষষ্ঠ দলীলঃ- قتال তথা লড়াই করা

হ্যাঁ প্রিয় পাঠক! লড়াই হচ্ছে আপনার সর্বশেষ, সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে শক্তিশালী দলীল। কেননা, মানুষ তাঁর প্রিয় ও ভালবাসার বস্তুটির জন্য প্রাণ বিসর্জন দিতে কুন্ঠাবোধ করেনা৷ সে তাঁর ভালবাসার বস্তটির জন্য সর্বশেষ প্রাণটি পর্যন্ত দিয়ে দেয়৷ সুতরাং, যে বা যাঁরাই কিতালের মারহালা পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে, তাহলে সে বা তাঁরাই তাঁদের ভালবাসার দাবিতে সর্বোচ্চস্তরে পৌঁছতে পারবে৷ কেননা কিতাল হলো এমন এক মারহালা, যেখানে প্রতিটা মূহুর্ত জীবন বাজী রেখে সম্মুখপানে অগ্রসর হতে হয়৷ আর প্রবাদ আছে-
الموت جسر يوصل الحبيب الي الحبيب
অর্থাৎ, মৃত্যু হচ্ছে এমন এক পুল, যা বন্ধুকে বন্ধুর নিকট পৌঁছে দেয়৷

অতএব, প্রিয় পাঠক! জেনে নিন! কিতাল হচ্ছে এমন এক মাধ্যম যা আপনাকে আল্লাহর একেবারে নিকটবর্তী করে দেয়। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেছেন –
عن فضالة بن عبيد رضي الله تعالي عنه قال قال رسول الله صلي الله عليه وسلم اقرب العمل الي الله عز وجل الجهاد في سبيل الله ولا يقاربه شيئ
অর্থঃ হযরত ফুযালা ইবনে উবাইদা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেছেন, আল্লাহ তা’আলার সর্বাধিক নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম হলো, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা (আল্লাহ তা’আলার নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম হিসেবে) কোন আমল জিহাদের কাছাকাছিও হতে পারবেনা। (ইমাম বুখারী রহ. এর তারীখ)

সুবহানাল্লাহ! রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সুস্পষ্ট ঘোষণা যে, জিহাদ হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার সর্বাধিক নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের ক্ষেত্রে অন্য যেকোন আমল জিহাদের কাছাকাছিও হতে পারেনা৷ তাই আসুন! সকলেই কিতাল ফি সাবিলিল্লাহর মাধ্যমে আল্লাহর সর্বোচ্চ ভালবাসা অর্জন করি। এবং নিজেকে মুনাফিক হওয়া থেকে হিফাজত করি৷ আল্লাহ তা’আলা আমাদের সকলকে বুঝার এবং আমল করার তাওফিক দান করুন । আমীন! ইয়া রাব্বাল আলামিন।

One thought on “যেভাবে আপনি জিহাদ ও মুজাহিদীনদের ভালবাসবেন।। এবং মুনাফিক হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *