এই জীবন বিক্রি করে দাও আল্লাহর কাছে, দাম হিসেবে জান্নাত পাবে

সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন উত্তম রুপে। যিনি মানুষ কে শিক্ষা দিয়েছেন কলমের মাধ্যমে। তিনিই আর রহমান যিনি মানুষ কে কুরআন শিখিয়েছেন। জগতের সমস্ত সৃষ্টি শুধু তারই তাসবিহ পাঠ করতে থাকে। আসমান এবং জমিন সমুহ তারই অধীনে, আল্লাহ বলেছিলেন তোমরা আসো সেচ্ছায় বা আমি নিয়ে আসবো জোরপুর্বক, তারা বললো আমরা আসলাম স্বেচ্ছায়। প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি এক মুহূর্তের জন্য তার সৃষ্টির প্রতি উদাসীন না, আর এই কাজ তাকে সামান্য ক্লান্তও করেনা। তার কুরসি আসমান এবং জমিন সমুহ কে পরিবেষ্টন করে আছে, তিনি হচ্ছে আল হাইয়ুল কাইয়ুম, তিনিই হচ্ছেন আস সামিউল বাসির। তার কাছে গোপন থাকেনা কোন কিছুই কারন তিনি হচ্ছেন আলিমুল গাইব। তিনি আমাদের কে জানিয়েছেন – সাব্বাহা লিল্লাহি মা ফিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ।

سَبَّحَ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ

নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাবান।

দরুদ এবং সালাম মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসসালাম এর উপরে।

অতঃপর –

দেখ ভাই আমার, এই জীবন কি আল্লাহর দেয়া নয়? তুমি আমাকে সত্যি করে বল, এটা কি আল্লাহর দেয়া নয়? আজ থেকে বেশি না মাত্র ১০০ বছর আগে তুমি কোথায় ছিলে? ঠিক করে বল সৃষ্টিজগতের ঠিক কোন জায়গায় তোমার অস্তিত্ব ছিল? সে সময়ে কি কি সম্পদ তোমার কাছে ছিল? সৃষ্টি জগতের কত টুকু তোমার অধীনে ছিল? কে কে তোমাকে চিনত? তোমার নাম কার কার জবানে উচ্চারিত হত? কিছুই না, তাই না? তুমি নিজের অস্তিত্ব টুকুও খুজে পেলে না হে আমার ভাই! অথচ এটা মাত্র ১০০ বছর আগের কথা!

তাহলে ভেবে দেখ, কে তোমাকে এখানে নিয়ে আসলো? যেখানে তোমার কোন অস্তিত্বই ছিলোনা সেখানে কে তোমাকে অস্তিত্বে নিয়ে আসলো? শুরুতে কি ছিলে তুমি? সামান্য নুৎফা, নাপাক তরল! তাকিয়ে দেখ নিজের সৃষ্টির দিকে, তুমি ছিলে নাপাক কিছু যা তুমি আজ নিজের হাত দিয়ে স্পর্শ করতে ঘৃণা বোধ কর, তুমি এবং আমি আমাদের সবার সৃষ্টি ঐ নাপাক নুতফা থেকেই। সেই তুমি আজ অস্তিত্বে এসে তোমার রব্ব কে ভুলে গেলে!

দ্যাখো – আল্লাহ কি বলছেন –

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

هَلْ أَتَىٰ عَلَى الْإِنْسَانِ حِينٌ مِنَ الدَّهْرِ لَمْ يَكُنْ شَيْئًا مَذْكُورًا
إِنَّا خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنْ نُطْفَةٍ أَمْشَاجٍ نَبْتَلِيهِ فَجَعَلْنَاهُ سَمِيعًا بَصِيرًا
إِنَّا هَدَيْنَاهُ السَّبِيلَ إِمَّا شَاكِرًا وَإِمَّا كَفُورًا

মহাকালের (মধ্য থেকে) মানুষের উপরে কি এমন কোন সময় অতিবাহিত হয়নি যখন সে উল্লেখ করার মত কোন কিছুই ছিলোনা?
আমি তাকে সৃষ্টি করেছি মিশ্রিত শুক্রবিন্দু (নুৎফা) থেকে তাকে পরীক্ষা করার জন্য, এজন্য তাকে শ্রবণশক্তি এবং দৃষ্টিশক্তির অধিকারী করেছি।
আমি তাকে পথ দেখিয়েছি, (এখন) হয় সে কৃতজ্ঞ হবে অথবা অকৃতজ্ঞ হবে।
(সুরা আদ দাহর; ১-৩)

নিশ্চিত থাকো এই জিন্দগী যেমন তোমার অনুমতি নিয়ে শুরু হয়নি – একই ভাবে এটা শেষ হবার সময়েও তোমার অনুমতি নিবেনা। তাকিয়ে দেখ – যত রাজা বাদশা দেখতে পাও তাদের কেউ কি মৃত্যুর থেকে ৫ মিনিট সময় চেয়ে নিতে পেরেছিলো? তাদের সমস্ত ধন সম্পত্তি সৈন্য বাহিনী তাদের কোন উপকারে আসতে পেরেছিলো কি?

হে আমার ভাই – কতই না উত্তম সেই জিন্দেগী যা শুধু মাত্র আল্লাহর জন্য সৃষ্টি হয়েছিলো আর শুধুমাত্র আল্লাহর জন্যই শেষ হলো! তুমি চাও কিংবা না চাও এক দিন তোমাকে আল্লাহর সামনেই দাড়াতে হবে। সবাইকেই দাড়াতে হবে। তুমি কি দেখনো প্রতিদিন কত মানুষের জীবন শেষ হয়ে যায়। কেউ বিছানায় মরে, কেউ রাস্তায় মরে, কেউ পানিতে মরে, কেউ পতিতালয়ে মরে কেউ, মদের বোতল সামনে রেখে মরে, কেউ বা মরে মসজিদে আবার কেউ মারা যায় ময়দানে, আল্লাহর রাহে!

এদের সবার মৃত্যু কি এক! তুমি কি মনে কর সবাই যেদিন আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে এদের সবার হাল কি একই হবে?

যে মরলো নাপাক কোন মুশরিক নারীর জন্য আর যে মারা গেলো আল্লাহর জন্য তাআর দুই জন কি এক? দিন আর রাত কি এক?
যে মারা গেলো তাগুতের জন্য আর যে মারা গেলো আল্লাহর দ্বীনের জন্য তারা দুই জন কি এক? যার চোখ আছে আর চোখ নাই তারা দুই জন কি এক?

তুমি জানো, তুমি একদিন মরবেই – তাহলে বুদ্ধিমান তো সেই যে তার মৃত্যু কে আল্লাহর রাহে করতে চাইবে। কারন, আল্লাহু মালিক আল ইয়াওম আদ দিন। আল্লাহ হচ্ছেন সেই দিনের মালিক যেদিন আর কোন মালিক থাকবে না। সবাই উলঙ্গ অবস্থায় নিজ পা যত টুকু জায়গা নিতে পারে ততটুকু জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকবে ৫০ হাজার বছর ধরে। আর যারা আল্লাহর জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেয় তারা সেদিন আল্লাহর আরশের নিচে কিংবা জান্নাতে সবুজ পাখি হয়ে ঘুরে বেড়াবে।

হে আমার ভাই – দেখ যারা দেশের জন্য মরে তাদের কে বীর বলে কত সম্মান দেয়! শহীদ বলে। কিন্তু তুমিই বল, তাকে যদি ঐ ২০, ২৫, ৩০ কিংবা ৫০ হাজার টাকা বেতন না দেয়া হত তাহলে সে কি নিজে থেকে এই কাজে আসতো? সে তো সামান্য কিছু রিজিকের জন্য এই কাজে এসেছে – আর তার মৃত্যুর সময়ে সে মরে গেছে। সে তো পারিশ্রমিক ছাড়া এখানে আসেনি। আর তার পারশ্রমিক সে পেয়ে গেছে। তাহলে এরা, আর যারা আল্লাহর দ্বীনের জন্য শুধু মাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে কুরবান করে দেয় – তারা কি এক? সাদা আর কালো কি এক?

হে আমার ভাই – যদি তুমি বুঝতে আল্লাহর রাহে, আল্লাহর দ্বীনের জন্য মৃত্যু কত সম্মানের! তুমি তো মরবেই এটা নিশ্চিত! সন্দেহ করার অবকাশ ও নাই। তাহলে এই মৃত্যু টা তো তার সন্তুস্টির জন্যই হওয়া উচিত যিনি হচ্ছেন বিচার দিনের মালিক। কারন সেই দিন আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জাহ তোমাকে আলাদা করে ফেলবেন অন্যদের থেকে আর শাহাদাতের অনন্য মর্যাদা দান করবেন!

হে ভাই – এখনি নিয়াত কর শাহাদাতের। দুনিয়ার জিন্দেগি কে লাথি মারো। এই দুনিয়া তোমাকে কিছুই দিবেনা, এই দুনিয়া ধোঁকা আর ছলনা ছাড়া আর কিছুই না। সত্যি যদি তোমার দেখার চোখ থাকে তুমি দেখবে যারাই এই দুনিয়ার পিছনে ছুটেছে তারাই হতাশ হয়েছে। মনে রেখ প্রাপ্তিই সব না। মরুভুমির বুকে তুমি যতই পানি ঢালো তা কখনোই নহর তৈরি করতে পারেনা। মরুভুমি শুধু পানি শোষণই করবে, এটাই তার ধরন। এই দুনিয়া সন্তুস্টির জায়গা না, মিছে মরিচিকার পিছনে ছুটে নিজেকে ধ্বংস করে দিওনা। যে দুনিয়ার পিছনে ছুটলো আর এই ছুটতে ছুটতেই কবরে চলে গেলো – আল্লাহর দ্বীনের দিকে তাকানোর সুযোগ হলোনা – তুমি কি মনে কর কেমন হবে তার ঐ জিন্দেগী, যার জন্য সে কিছুই করলোনা! আর যে দুনিয়াকে ঠেলে দিলো, আর আখিরাতের জন্য নিজেকে বরাদ্দ করলো কেমন হবে তার জিন্দেগী যে শুধু মাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির তালাশেই বেচে ছিলো!! এই দুই জন কি এক? আলো আর অন্ধকার কি এক?

হে আমার ভাই – আল্লাহ ওয়াদা দিয়েছেন প্রশস্ত জান্নাতের, যার প্রশস্তততা আসমান ও জমিনের চেয়েও বেশি। আল্লাহ ওয়াদা দিয়েছেন অনন্ত জীবনের, আল্লাহ ওয়াদা দিয়েছেন আল্লাহর সন্তুষ্টির। সেই ওয়াদা ছেড়ে আমরা কি ছলনাময় এই দুনিয়ার ওয়াদা নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে যাবো?

প্রিয় ভাই তোমাকেই বলছি – এই জিন্দেগী কে বিক্রি করে দাও আল্লাহর কাছে – দাম হিসেবে জান্নাত পাবে। দাম হিসেবে জান্নাত পাবে। দাম হিসেবে জান্নাত পাবে। ভাবছো বিক্রি করবে না, দাম টা কম হয়ে যাচ্ছে – তাহলে মনে রেখো তোমার অজান্তেই একদিন এই জিন্দেগী আল্লাহর কাছেই বিক্রি হয়ে যাবে। তাই এখুনি সুযোগ জান্নাতের দামে নিজের জিন্দেগি কে বিক্রি করে দাও।

এই ব্যাবসা বড়ই লাভজনক – প্রিয় ভাই যদি আমি তোমাকে বুঝাতে পারতাম। আর একবার যা বিক্রি হয়ে যায় তখন সেখানে আর তোমার কোন মালিকানা নাই। তাই আল্লাহর কাছে বিক্রি করে দেয়া জিন্দেগী কে শুধু মাত্র আল্লাহর হুকুমেই চালাতে হবে।

হে ভাই – আমি তোমাকে আহবান করছি জান্নাত সমুহের দিকে, অনন্ত জিন্দেগীর দিকে, আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে – শাহাদাতের দিকে। তাগুত আরা কাফের রা যদি জানত তোমাকে শহীদ করে দিয়ে তারা তোমাকে কি নেয়ামত পাইয়ে দিলো তাহলে আফসোস করে তারা সম্ভবত নিজেদের কেও উড়িয়ে দিত!

হে ভাই – জান্নাতের টিকিট বাতাসে উড়ে বেড়াচ্ছে, শাহাদাতের মওসুম এসে গেছে, শুহাদাদের বাজার বসে গেছে, আর দুনিয়ার বেচা কেনা শেষ করে তারা আসমানে উঠে যাচ্ছে। আর তুমি কি তাহলে ঘরেই বসে থাকবে!

প্রিয় ভাই, আবার চিন্তা করে দেখো তোমার ঘর উত্তম, নাকি জান্নাত?


===


আল্লাহুম্মার ঝুকনি ওয়ার ঝুকি আহলি শাহাদাতান ফি সাবিলিক
তাকব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম
ভাই হিসেবে দুয়ার দরখাস্ত –

2 thoughts on “এই জীবন বিক্রি করে দাও আল্লাহর কাছে, দাম হিসেবে জান্নাত পাবে

  1. আসসালামুয়ালাইকুম আমার প্রিয় ভাইয়েরা। কথাগুলো অন্তরে গেঁথে নিলাম ভাই। সত্যিই তো ১০০ বছর আগে আমাদের কোন অস্তিত্বই ছিলোনা?আর এখন জন্ম গ্রহণ করার পর দুনিয়া নিয়ে পরে গিয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *